Posts

কবি কুসুমকুমারী দাশ ও পরাবাস্তবতার কবি জীবনানন্দ

  কবি কুসুমকুমারী দাশ ও পরাবাস্তবতার কবি জীবনানন্দ  মেয়েরা লেখে, কিন্তু তাঁকে লেখার সময় খুঁজে বের করে নিতে হয়। ভারতীয় ঘরানার রান্নাঘরের এবং গৃহের অন্তর্গত ব্যবস্থাপনায় এমন কিছু আছে যা  সারাদিন আটকে রাখার জন্যে যথেষ্ট।  আমরা যদি কিছুটা পেছনের দিকে হাঁটি আর খুঁজে পাই এক একান্নবর্তী পরিবারের রান্নাঘর ও এক কবিকে, অবশ্যই সেসময়কার ভাষ্যে মহিলা কবিকে,  তাহলে রান্নাঘরটিই সেই কবির কবিসত্তাকে ছাপিয়ে যায়। মনে হয় ভারতীয় ঘরানার রান্নাঘর নিয়েই নাহয় একখানা দীর্ঘ আলোচনায় বসি। কবে থেকে কর্মবিভাজন হয়েছিল মেয়েদের জন্যে রান্নাঘর আর ছেলেদের জন্যে আলো হাওয়ার উন্মুক্ত পৃথিবী কে জানে! ৷ প্রাসঙ্গিক আলোচনায় আসছি কবি কুসুমকুমারী দাশকে নিয়ে। কবি কুসুমকুমারী দাশের একটি কবিতা আমরা মোটামুটি সবাই জানি -  "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে  কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে.... "ইত্যাদি  নি:শব্দেই যেন কবি জীবনানন্দ দাশ মায়ের এই উচ্চারণকে গ্রহণ করেছেন, যাঁকে কথায় পাই কম, কবিতায় পাই বেশি। এবং তাঁর কবিতাপাঠে যে aesthetic পরিশুদ্ধি চেতনাকে পরিশ্রুত করে তার পেছনেও রয়েছে এক দীর্ঘ ছায়া, সেটি তাঁর ম...

মাইকেল মধুসূদন দত্তের চতুর্দশপদী কবিতাবলি : কিছু তথ্য কিছু কথা।

  মাইকেল মধুসূদন দত্তের চতুর্দশপদী কবিতাবলি : কিছু তথ্য কিছু কথা। “I want to introduce the Sonnet into our language and, some morning ago, made the following-  “ কবি মাতৃভাষা’' নিজাগারে ছিল মোর অমূল্য রতন  অগণ্য; তা সবে আমি অবহেলা করি, অর্থলোভে দেশে দেশে করিনু ভ্রমণ,  বন্দরে বন্দরে যথা বাণিজ্যের তরী। কাটাইনু কতকাল সুখ পরিহরি, এই ব্রতে,যথা তপোবনে তপোধন,  অশন,শয়ন ত্যজে, ইষ্টদেবে স্মরি,  তাঁহার সেবায় সদা সঁপি কায় মন। বঙ্গকুল-লক্ষ্মী মোরে নিশার স্বপনে  কহিলা - হে বৎস, দেখি তোমার ভকতি, সুপ্রসন্ন তব প্রতি দেবী সরস্বতী। নিজ গৃহে ধন তব, তবে কি কারণে  ভিখারি তুমি হে আজি, কহ ধনপতি? কেন নিরানন্দ তুমি আনন্দ সদনে?   What say you to this my friend! In my humble opinion, if cultivated by men of genius, our Sonnet in time would rival the Italian.’’  এই পত্রটি লিখেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর বন্ধু রাজনারায়ণ বসুকে খুব সম্ভবত ১৮৬০ ইংরাজিতে।  ১৮৬২ সালে ক্যান্ডিয়া জাহাজে করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ফ্রান্সে যাত্রা করেন। এই সময়কালে তিনি ইতালিয়ান ভাষা...

জগদীশ গুপ্তের গল্প ; কিছু আলোচনা, কিছু কথা

১ম পর্ব   "দেওয়ালে কপাল ঠুকে নিজেকেই জন্মাবে আবার  তোমার এ ইচ্ছা ছিল। পাওনি কোথাও  অভ্যর্থনা। " ( "জগদীশ গুপ্ত " - মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)  ৷ কবি মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় "জগদীশ গুপ্ত" কবিতার দুটি পংক্তির মধ্য দিয়েই ব্যাখ্যা করে নিয়েছেন জগদীশ গুপ্তের গল্পের বিশেষতা ও তাঁর মনোপ্রকৃতির। জনপ্রিয়তা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা লেখক মাত্রেরই থাকে। কিন্তু কিছু লেখক সমসময়ের থেকে এগিয়ে থাকার কারণে এবং  লেখ্য জগতের নানাবিধ গ্রন্থিল জটিলতার কারণে পাঠকপ্রিয়তা পান না।  ৷  জগদীশ গুপ্ত "কল্লোল" সমকালীন।  কল্লোল গোষ্ঠীর লেখকরা রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্রকেন্দ্রিক পরিমন্ডলে পাঠকের দৃষ্টির আচ্ছন্নতা ভাঙবার জন্যে অভিজাত ও মধ্যবিত্তের ভাবপ্রবণতাকে ভাঙতে শুরু করলেন অনেকটা যেন হাতুড়ির আওয়াজে।  তাঁদের লেখায় ব্রাত্যজনেরা ভিন্নতর মূল্যবোধ নিয়ে কোলাহল করতে করতে যেভাবে সাহিত্য জগতে ভিড় জমাতে লাগল, জগদীশ গুপ্ত কিন্তু ঐ পথ দিয়েই গেলেন না, আলাদা হয়ে একা একাই তাঁর নিজস্ব আলো নিয়ে নিজের পথেই চললেন।  এ যেন এক সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র প্রবাহ, উৎস থেকে পরিণামে একেবারেই একক। তাঁর সেই চলার ...