দেবব্রত বিশ্বাসের কণ্ঠে “ কেন চেয়ে আছো গো মা “ - এক উপলব্ধি

 

 দেবব্রত বিশ্বাসের কণ্ঠে “ কেন চেয়ে আছো গো মা “ - এক উপলব্ধি 


রবীন্দ্রদর্শনের ছোঁয়ায় সিক্ত হয়ে আছে তাঁর সৃষ্ট যাবতীয় সঙ্গীত। সত্যনিষ্ঠা, প্রকৃতিপ্রেম, ঔপনিষদিক মূল্যবোধের পথই ছিল তাঁর সৃজনভুবনের যাত্রাপথ। তাই তাঁর গান স্বতই আমাদের ভিন্নলোকে নিয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের গানের কথা এবং সুর দুয়েরই এক নির্দিষ্ট যাত্রাপথ রয়েছে। গানের কথাকে সুরে ভাসিয়ে না দিয়ে তাঁর কথাকে কিছুটা ভেঙে সুরাশ্রয়ী করে গানের বার্তাকে পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে থাকে রবীন্দ্রগানের অনন্য সুরপ্রকৃতি। শব্দাবলীর স্পষ্ট উচ্চারণভঙ্গিমা এই মহত্তম কাজটি সুচারুভাবে করে থাকে, যা আমরা  সমৃদ্ধরূপে পাই দেবব্রত বিশ্বাসের গানে। 

এই নিবন্ধে একটি গানই আলোচ্য এবং অবশ্যই সেইটি ব্যক্তিগত উপলব্ধিজাত, “কেন চেয়ে আছ গো মা মুখপানে”। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আলোচনার গতিমুখ প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটকের শেষ চলচ্চিত্র “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো” তে  দেবব্রত বিশ্বাসের কণ্ঠে “কেন চেয়ে আছো গো মা “ গানটির সমকালীন অস্থির সময়ের সাথে সাযুজ্য রেখে চমৎকার প্রয়োগকৌশলে।

  “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো”র বিষয়ীভূত প্রসঙ্গের প্রেক্ষাপটটি একটু টেনে আনতেই হয়। সিনেমাটি তৈরি হয়েছিল ১৯৭৪ সালে,মুক্তি পায় ১৯৭৭ এ। ১৯৭১ এ পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তিযুদ্ধ,কলকাতায় তথা পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে ছিন্নমূল মানুষের ঢল,  নকশাল আন্দোলন এবং বেকারত্ব, গ্রামজীবনে মহাজনদের অত্যাচার, গ্রামীণ শিল্পের কদর কমে যাওয়া এবং বাঙালি বুদ্ধিজীবীর টালমাটাল অবস্থা  ইত্যাদির রূপকার্থে নির্মিত চলচ্চিত্রটি  সত্তরের দশকে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ঋত্বিক ঘটক নিজেই মুখ্য চরিত্র, যাঁর নাম নীললণ্ঠ বাগচি। স্ত্রী দুর্গা তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি এক মোদো মাতাল স্বামী, ছোট ছেলেকে পড়াতে হলে, মানুষ করতে হলে এমন মাতাল বুদ্ধিজীবী অকর্মণ্য স্বামীর সাথে থাকা চলে না। স্ত্রী সুদূর গ্রামে শিক্ষকতার চাকুরি নিয়ে চলে যাবার পর এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবতী এসে হাজির হলো। তাঁর বাসস্থান ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরেখায়। তাঁকে ছিন্নমূল করেছে খানসেনারা। পরিবার পরিজন হারিয়ে সে চলে এসেছে কলকাতায়। নাম তার বঙ্গবালা। তারপর এক বেকার যুবক নচিকেতা, এক গ্রামের ইশকুলের চাকুরি হারানো শিক্ষক, বঙ্গবালা এবং নীলকন্ঠ বাগচির পথচলা। পথ চলতে চলতে এঁরা গিয়ে আশ্রয় নেন পুরুলিয়ার ছৌ নাচের শিল্পী জগন্নাথের ঘরে, তখন পুরুলিয়ার জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়েছে সশস্ত্র বিপ্লবে বিশ্বাসী নকশালরা, সেখানে থেকে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো” চলচ্চিত্রটি পুরোটাই  রূপকাশ্রয়ী। 

প্রসঙ্গত বলতেই হয়, রবীন্দ্রনাথের প্রতিটি গান মানবসত্তার সাথে এমনভাবে বিজড়িত যে বিস্মিত হয়ে ভাবতে হয় প্রতিটি গানই মানবজীবনের পথচলার অনুপুঙ্খে কীভাবে এতটাই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। গানটি গীতবিতানের জাতীয় সঙ্গীত পর্যায়ের। পুরো লিরিকটি এইরকম - 


“কেন চেয়ে আছ, গো মা, মুখপানে। 

এরা চাহে না তোমারে চাহে না যে, আপন মায়েরে নাহি জানে। 

এরা তোমায় কিছু দেবে না, দেবে না- মিথ্যা কহে শুধু কত কী ভাণে।।

তুমি তো দিতেছ মা, যা আছে তোমারি - স্বর্ণশস্য তব, জাহ্নবীবারি,

জ্ঞানধর্ম কত পুণ্যকাহিনী।

এরা কী দেবে তোরে! কিছু না, কিছু না। মিথ্যা কবে শুধু হীনপরাণে।।

মনের বেদনা রাখো, মা, মনে। নয়নবারি নিবারো নয়নে। 

মুখ লুকাও, মা, ধূলিশয়নে- ভুলে থাকো যত হীন সন্তানে।

শূন্য - পানে চেয়ে প্রহর গণি গণি দেখো কাটে কিনা দীর্ঘ রজনী।

দু:খ জানায়ে কী হবে, জননী,  নির্মম চেতনাহীন পাষাণে। “(রাগ কাফি)


গানটি লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ১২৯৬ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে। তখন তাঁর বয়েস মাত্র পঁচিশ  বছর। পরাধীনতার যন্ত্রণা তিনি উপলব্ধি করেছেন মর্মে মর্মে। বিদেশি শাসকের দেশীয় মানুষের ওপর

শোষণ ও অত্যাচার তাঁকে পীড়িত করেছে, দেশমাতৃকার এই লাঞ্ছনা তাঁর গানে হৃদয়মথিত বেদনারূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। সেই তরুণ বয়সে লেখা গানটি কোনও না কোনও সময়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে চমৎকারভাবেই প্রাসঙ্গিক হয়েছে। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের পর ব্যাপক আন্দোলনের সময়  বেদনাহত কবি বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে যোগ দেন। তরুণ বয়সে রচিত গানটি  বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনেও  ব্যাপকভাবে বিস্তারিত হয়েছিল, কারণ বিভাজনের যন্ত্রণার প্রেক্ষাপটে এই গানটি চমৎকারভাবেই প্রাসঙ্গিক। আবার ১৯৭৪ এ ঋত্বিক ঘটকের শেষ ছবি “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো”র  প্রেক্ষাপটে এই গানটি সমানভাবেই প্রাসঙ্গিক। ঋত্বিক ঘটক গানটিকে সুপ্রযুক্ত ভাবে ব্যবহার করেছেন যা দর্শকের ভেতর অবদি ছুঁয়ে গেছে। গায়ক যেহেতু দেবব্রত বিশ্বাস তাই গানের প্রতিটি শব্দ ছবির বার্তাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।


রবীন্দ্রনাথের গানের কথাকে কীভাবে ভেঙে ভেঙে শ্রোতাকে শুধু শোনানো নয়, তাঁর অন্তরে পৌঁছে দেওয়া যায় এবং তাঁকে উদ্দীপ্ত করে দেওয়া যায়, দেবব্রত বিশ্বাসের কণ্ঠ সেই হিসেবে ছিল ব্যতিক্রমী। সেইজন্যে তাঁকে বিশ্বভারতী মিউজিক বোর্ডের প্রচলিত প্রথাকে ভাঙতে হয়েছে এবং এরজন্যে শেষ জীবনে অনেক দু:খও পেতে হয়েছে। দেবব্রত বিশ্বাসের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান মূলত মানুষের গান। তিনি রবীন্দ্রনাথের গানকে  বিশ্বভারতীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি না করে মানুষের কাছে নিয়ে এসেছেন। একজন শিল্পীর সৃজন তো মানুষের জন্যেই হয়ে থাকে। হ্যাঁ, একজন প্রথাভাঙা কবির প্রতিভা, একজন প্রথাভাঙা চিত্রপরিচালকের প্রতিভা ও একজন প্রথাভাঙা গায়কের প্রতিভার অনবদ্য মিলন হতে দেখেছি  “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো” তে আর বারংবার বিস্মিত হয়েছি। 

দেশভাগের বিষাক্ত হলাহল এই দেশমাতৃকাকে নীলকন্ঠ করে রেখেছে। “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো”র মূল চরিত্র এক বুদ্ধিজীবী যার নাম নীলকন্ঠ, দিশি মদ খেতে খেতে যার পা দুটো টলোমলো, বিভ্রান্ত, সে দেশভাগ চায়নি, যে চেয়েছিল দুই বঙ্গ এক হয়ে যাক। হয়তো সে সেই স্বপ্নও দেখেছিল একাত্তরের যুদ্ধে যে দুই বাংলা এক হয়ে যাবে। তাই যে শরণার্থী মেয়েটি তার আশ্রয়ে এলো তাঁর নাম বঙ্গবালা, না কি রূপকার্থে সেই- ই দেশমাতৃকা, যে বিপন্ন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে পথে প্রান্তরে, যার খাদ্য নেই, আশ্রয় নেই, যে দেশের কুলাঙ্গার সন্তানদের দ্বারা বিভাজিত, যে পুরুলিয়ার ছৌ নাচের মুখোশ পরে নাচতে চায়, আর সে মুখোশটি মা দুর্গার, যে দুর্গা বঙ্গভূমিতে সাড়ম্বরে পূজিত হন, সেই দুর্গাই বঙ্গভূমির দেশমাতৃকা নন কি? 


স্বনামধন্য গায়ক দেবব্রত বিশ্বাস নিজস্ব গায়কীতে গাইতেন। গানের কথা এবং সুরের ব্যঞ্জনা দুটো দিকের যে অপরূপ মেলবন্ধন তিনি করেছিলেন তা মগ্ন শ্রোতারা অনায়াসেই ধরতে পারবেন। এই অসাধারণ গায়কী যেমন তাঁকে লোকপ্রিয়তা দিয়েছে তেমনই বিতর্কিতও করেছে, কারণ প্রথা ও প্রথাভাঙার সাহসিকতার মধ্যে দ্বন্দ্ব অনিবার্য। এই দ্বন্দ্ব শেষজীবনে তাঁকে কষ্ট দিয়েছে। শেষজীবনে বিশ্বভারতী মিউজিক বোর্ড দেবব্রত বিশ্বাসের গানে বেশ কিছু শর্তাবলি আরোপ করায় ১৯৭১ সালের পর থেকে দেবব্রত বিশ্বাস রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়াই ছেড়ে দেন।

ফিরে আসছি “যুক্তি তক্কো গপ্পো”র সেই দৃশ্যে। বঙ্গবালার শাসন, ছৌ নাচের মুখোশ হাতে নিয়ে বলা -”মুই লাচুম”। মা দুর্গার মুখোশ হাতে নিয়ে নৃত্য ইত্যাদি দৃশ্য বঙ্গমাতৃকারই প্রতিচ্ছবি, যিনি অত্যাচারিত হয়েছেন, ভূখণ্ডকে দু’ভাগ হতে দেখেছেন, যিনি পথে নেমেছেন বাংলার গ্রাম, গ্রামান্তরে ঘুরে বেরিয়েছেন আবার এরই মাঝে সৃষ্টিকেও অবারিত রাখতে চেয়েছেন, ধ্বংস চাননি, কারণ তিনি মা। নীলকণ্ঠ বাগচি যন্ত্রণায় জরজর, বারবার গলায় ঢালছেন বাংলা মদ। কেন বারবার গলায় বাংলা মদ ঢালছেন,সে কি এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি  নিরসনের উপায় কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না দেখে?  তিনি বিহ্বল, টলোমলো সুপার বুদ্ধিজীবির প্রতীক, কিন্তু  বিদেশি অনুকরণ নয়, দুই বাংলাকে এক করতে চান। তাই তিনি সময় থেকে সরে থাকা সুবিধাভোগী সাহিত্যিকের বিলিতি মদ ফিরিয়ে দেন। এই অসহায়ত্ব ফুটে উঠছে তার গানে। শোনা যায়, সিনেমার শুটিং এর সব কিছু তৈরি হয়ে যাবার পর দেবব্রত বিশ্বাস নাকি গানটি গাইবেন না বলেছিলেন।  বলেছিলেন, তাঁর গলা খারাপ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গেয়েছিলেন শুধু ঋত্বিক ঘটকের একান্ত অনুরোধে। ঋত্বিক জানতেন এবং চিনতেন দেবব্রত বিশ্বাসকে। দুজনের পথচলায় একটা গূঢ় যোগসূত্র ছিল যেন, সেটি সেই নতুনত্বের, প্রথাভাঙার, সাহসিকতার।  দেবব্রত বিশ্বাস এটাই বিশ্বাস করতেন, রবীন্দ্রনাথ কারও একার সম্পত্তি নন। তাঁকে এভাবে আটকে রাখলে তাঁর গানের প্রতিই অবমাননা করা হয়। মানুষকে শুনতে হবে তাঁর গান এবং উপলব্ধি করতে হবে গানের ভাষা, সুরকেও মুক্তি দিতে হবে আলোহাওয়ায়।  যথার্থ যে শিল্পী তাঁর স্বাধীনতার প্রয়োজন। ঐ মহৎ কাজটি সুচারুভাবে করতে গিয়ে বিশ্বভারতীর তরফ থেকে তাঁর ওপর যে শর্তাবলি প্রযোজ্য হলো তা তিনি মেনে নেননি।  মেনে নেননি শিল্পীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। ১৯৭১ থেকেই তিনি রবীন্দ্রনাথের গান আর করেননি।  ১৯৭৪ এ “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো”র শুটিং হয়। সুতরাং হয়তো এজন্যেই তিনি গাইতে চাইছিলেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঋত্বিকের অনুরোধেই তাঁকে গাইতে হলো। দেবব্রত বিশ্বাসের গায়কী অনুসারে এটাই বলা যায়, সুরের ধারায় গানের কথা কখনও ভাসিয়ে না দেওয়া, আবার তাঁর উদাত্ত সুর ও গানের কথার স্পষ্ট উচ্চারণের যুগলবন্দি শ্রোতার কর্ণকুহরে সুধাবর্ষী হয়ে ওঠা। 

সিনেমার ক্লোজ শটে দেখানো হচ্ছে  বঙ্গবালার দিকে তাকিয়ে আছেন নীলকন্ঠ, ঠোঁট থেকে মুছে নিচ্ছেন দিশিমদ, তারপর নীলকণ্ঠের লিপে দেবব্রতের দরাজ কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের যুবাবয়সে কাফি রাগে লেখা জাতীয় সঙ্গীত পর্যায়ের সেই অস্তিত্ব নাড়িয়ে দেওয়া গানটি। বঙ্গবালা তাকিয়ে আছে নীলকণ্ঠের চোখে, দেবব্রতর কণ্ঠে - “কেন চেয়ে আছ গো মা, মুখপানে/ এরা চাহে না তোমারে চাহে না যে/ আপন মায়েরে নাহি জানে।” বঙ্গবালার চোখে ঝরে পড়ছে আকুলতা, দেবব্রতের কণ্ঠে কাফি রাগে সেই স্পষ্ট রবীন্দ্র গানের কথা - “ তুমি তো দিতেছ মা, যা আছে তোমারি/ স্বর্ণশস্য তব জাহ্নবী বারি / জ্ঞানধর্ম কত পুণ্যকাহিনি। এরা কী দেবে তোরে, কিছু না, কিছু না। মিথ্যা কবে শুধু হীনপরাণে।” ক্লোজ শটে বঙ্গবালার চোখ দিয়ে জল পড়ছে। বেদনাহত তাঁর দৃষ্টি। দেবব্রত নীলকণ্ঠের লিপে ভরাট গলায় গাইছেন -” মনের বেদনা রাখো মা মনে / নয়নবারি নিবারো নয়নে। “ চোখের জল মুছে দিচ্ছেন পরম মমতায় নীলকন্ঠ। এই যে দেশবিভাজনের কুৎসিত কুটিল রাজনীতি মানুষের অস্তিত্বকে, আত্মবিশ্বাসকে ছিন্নভিন্ন করছে তা দেখে দেখে হতাশ্বাস মা আর কী করতে পারেন মনের বেদনা মনের ভেতর লুকিয়ে রাখা ছাড়া! “মুখ লুকাও মা ধুলিশয়নে- ভুলে থাকো মা হীন সন্তানে।” শূন্যতা আর শূন্যতা। পরিপূর্ণ হতে দেয় কি মা-কে কেউ? রবীন্দ্রনাথের গানের কথায় “ সেই হীন সন্তানেরা”? “ শূন্য পানে চেয়ে প্রহর গণি গণি / দেখো কাটে কিনা দীর্ঘ রজনী। “  অবহেলিতা মা কার কাছেই বা জানাতে পারেন দু:খ! “ দু:খ জানায়ে কী হবে জননী/ নির্মম চেতনাহীন পাষাণে।”

 বঙ্গভঙ্গের সেই কুটিল রাজনৈতিক  প্রয়াস আরও ভয়ঙ্কর হলো কুটিলতর রাজনৈতিক খেলায় ১৯৪৭ এ। আর ১৯৭১ এর যুদ্ধে দেশ জুড়ে দেওয়ার যে সুযোগ ছিল তা ফলপ্রসূ হলো না। সুতরাং মায়ের চোখের শূন্যতা শূন্যই রয়ে গেল দশক এর পর দশকে।

কবি সত্যদ্রষ্টা, গায়ক তাঁর গানটিকে মুক্তি দিয়েছেন মানুষের কাছে, পৌঁছে দিয়েছেন কবির পঁচিশ বয়সে কাফি রাগে লেখা অনবদ্য গানটিকে  “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো”র বহুদ্বান্দ্বিকতায় আলোকিত নীলকন্ঠ বাগচির সম্পূর্ণ মৌলিক  দেহভাষ্যে। এই ত্রিধারা বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে এক ব্যতিক্রমী সংযোজন,  যা পুনর্স্থাপন করা বুঝি আর সম্ভব নয়।


……………………………….


# বিজয়া দেব। 


অপরাজিতা এপার্টমেন্ট 

২২৫, পূর্বাচল রোড নর্থ। 

পো: -হালতু।

ফ্ল্যাট নং -4E

কলকাতা -৭০০০৭৮ 

ফোন -৭৮৯৬৯৬৮৭৪৫








Comments

Popular posts from this blog

মাইকেল মধুসূদন দত্তের চতুর্দশপদী কবিতাবলি : কিছু তথ্য কিছু কথা।