দেশভাগ ও চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটকের সুবর্ণরেখা

 

দেশভাগ ও চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটকের সুবর্ণরেখা 



দেশভাগ, ভারতবর্ষের জন্যে এক অভিশাপ। সেই দেশভাগের যন্ত্রণা ক্ষতবিক্ষত করেছিল সমকালীনতা থেকে অনেকটা অগ্রসর চিত্রপরিচালক অনন্য প্রতিভাধর ঋত্বিক ঘটককে। “মেঘে ঢাকা তারা”, “সুবর্ণরেখা”, “কোমল গান্ধার” এই তিনটি চলচ্চিত্রেই তিনি দেশভাগের প্রসঙ্গ এনেছেন।  ১৯৬০ সালে রিলিজ হয় “মেঘে ঢাকা তারা।

মাত্র আটটি ছবি করেছিলেন ঋত্বিক-

 ১. অযান্ত্রিক (১৯৫৮)

২.পলাতক ( ১৯৫৯)

৩.মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০)

৪. কোমল গান্ধার (১৯৬১)

৫. সুবর্ণরেখা ( ১৯৬৫)

৬. তিতাস একটি নদীর নাম(১৯৭৩)

৭. নাগরিক (১৯৭৭)

৮. যুক্তি তক্কো আর গপ্পো ( ১৯৭৭)

এরমধ্যে দেশভাগ প্রসঙ্গ নিয়ে ত্রয়ী ছবি থেকে “সুবর্ণরেখা’' নিয়ে সামান্য আলোকপাত করছি সংক্ষিপ্ত পরিসরে। 

“সুবর্ণরেখা” ছবিটি রিলিজ হয় ১৯৬৫ সালে। চলচ্চিত্রের নির্মাণকাল ১৯৬২ থেকে। একটি নদী সুবর্ণরেখা, সমস্ত মানুষের পুনর্বাসনের লড়াই এর পাশাপাশি বয়ে চলেছে তার উদাসীন প্রকৃতিকে নিয়ে। প্রশ্ন জাগে কেন ঋত্বিক এই চলচ্চিত্রের নাম সুবর্ণরেখা রাখলেন? নদীর উদাসীন প্রকৃতির সাথে কি শরণার্থী মানুষের জন্যে পারিপার্শ্বিকের ঔদাসিন্যের কোনও সাযুজ্যের কারণে? না কি নদীও এমনই অসহায়! তাকেও মানুষ নিজের জন্যে অসদ্ব্যবহার করে থাকে নিজের স্বার্থে?  ঈশ্বর চক্রবর্তী নামে এক শরণার্থী যুবকের পুনর্বাসনের সময় এবং পুনর্বাসিত জীবন থেকে ফের উৎখাতের সময়ের সাক্ষী নদী সুবর্ণরেখা। এই জীবনযুদ্ধের দুটি প্রান্তদেশের সাথে সে জুড়ে আছে। 

“সুবর্ণরেখা’' ছবিটির প্রেক্ষাপট ১৯৪৮ সালের ২৬ শে জানুয়ারি, জালিয়ানওয়ালাবাগ দিবসে। চলচ্চিত্রটির শুরুতে তাই বলা হয়েছে। শরণার্থীরা কলকাতার খোলা জায়গা দখল করে কলোনি গড়ে তুলছে, প্রথম দৃশ্যেই দেখানো হচ্ছে শরণার্থীরা কলোনি স্থাপন করে ইশকুল প্রতিষ্ঠা করছেন, পতাকা উত্তোলন করলেন যিনি তিনি হবেন এই ইশকুলের শিক্ষক, তাঁর নাম হরপ্রসাদ, তিনি পড়াবেন সংস্কৃত ও বাংলা, আরেকজন শরণার্থী যাঁর নাম ঈশ্বর চক্রবর্তী, তিনি পড়াবেন ইতিহাস ও ইংরেজি। এরপরই  দেখা যাচ্ছে কলোনিতে আশ্রয় খুঁজছে ঢাকা থেকে আসা বিধবা বাগদিবউ কৌশল্যা, সঙ্গে রয়েছে তার ছোট্ট ছেলে অভিরাম। এই সময়েই জমিদারের গুন্ডারা এসে তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, কারণ এই কলোনিতে পাবনার মানুষকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে, তাছাড়া কৌশল্যা বাগদি, অন্ত্যজ শ্রেণীর।  যেভাবে তাকে টেনে হিঁচড়ে  ট্রাকের পেছনে তোলা হলো তাতে তার ছোট্ট ছেলে অভিরাম তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। ওদিকে হরপ্রসাদ তখন ছাত্রছাত্রীদের  দেশভক্তির বাণী উচ্চারণ করাচ্ছেন,  এদিকে কাঁদতে কাঁদতে গাড়ির পিছু পিছু ধাওয়া করছে অভিরাম। ছবির প্রথমেই মার কাছ থেকে  বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল অভিরাম,  ঠিক আরেক মাতৃ বিচ্ছিন্নতার ঝলক আমরা দেখছি ছবির একেবারে শেষ পর্যায়ে। এই মর্মান্তিক দৃশ্যের এক নিগূঢ় সংকেত যেন দর্শককে নাড়িয়ে দিয়ে যায়। এই মা কে?  তিনি কি দেশমাতৃকা? তার সাথে সন্তানের এই যে বিচ্ছেদ, তাই হয়তো এই বিভাজিত দেশের একমাত্র নিয়তি।


ঋত্বিক জীবনকে দেখেছেন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এবং অবশ্যই নেতিকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন। ইতি নয়, নেতি, না কি নেতি নেতি করতে করতে ইতিকেই হৃদয় দিয়ে চেয়েছিলেন তিনি?  তাঁর ছবি  একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে দর্শককে দগ্ধ করে দেয়, করে দেয় ছিন্নভিন্ন, বিক্ষত। জীবনের  বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে এমনভাবে আর কেউ দেখাতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। সবাই বাঁচতে চায়, কিন্তু বাস্তবতার কাছে পরাভূত হয়, সত্যি হয়ে ওঠে মৃত্যু। হ্যাঁ, মানুষের জীবনে চরম ও পরম সত্যি মৃত্যু। কিন্তু এতো মৃত্যু! দেশভাগের অভিশাপ থেকে  কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারে না হরপ্রসাদ, বাগদিবউ কৌশল্যা, সীতা, অভিরাম এবং বাঁচতে বাঁচতে বাঁচার যুদ্ধে হেরে যাওয়া ঈশ্বর। 

ঈশ্বর ছিল এক মেধাবী যুবক ওপার বাংলায়, যা ১৯৪৭ থেকে হয়ে গেল পাকিস্তান। সে মাটি তাকে ছাড়তে হয়েছে।একদিন কলকাতার পথেঘাটে যখন সে কাজ ও আশ্রয়ের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন এক গাড়ি তার পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে যায়। ভেতরে বসে আছে তাঁর একসময়ের সহপাঠী রামপ্রসাদ। সে সম্ভবত হিন্দিভাষী,  ঈশ্বরকে সে গাড়িতে তুলে নেয়। এই রামপ্রসাদই তাঁকে ঘাটশিলা থেকে খানিকটা দূরের গ্রাম ছাতিমপুরে কাজের সন্ধান দেয়। জায়গাটি সুবর্ণরেখা নদীর তীরে। সেখানে রামপ্রসাদের একটি চালকল ও আরেকটি কারখানা রয়েছে। স্বল্প মাইনেতে সে খুঁজছে  মিল দেখাশোনার জন্যে একজন দক্ষ মানুষ। প্রথমে কাজ নিতে চায়নি ঈশ্বর।  পরে অনন্যোপায় হয়ে সে সীতা ও অভিরামের হাত ধরে সুবর্ণরেখা নদীর তীরে আসে। কাজে যোগ দেয়। দুটি ছোট ছেলেমেয়ে সীতা ও অভিরাম হয়ে যায় পরস্পরের খেলার সাথী। তবে পড়াশোনা করতে  অভিরামকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কলকাতায় হস্টেলে। আর সীতার গানের কণ্ঠ সুমধুর হওয়ার জন্যে তাকে গান শেখানো শুরু হয় শুধু, পড়াশোনা নয়। আবহযন্ত্রানুসঙ্গের সঙ্কেতধর্মিতা প্রথমেই যেন অনেক কিছুই বলে দেয়। সীতার নাম এবং গান শেখানোর শুরুতে ঘুঙুরের আওয়াজ এবং কিছু কিছু সংলাপ বলে দেয় যেন সীতার জীবনের অন্তিম পরিণতি কী হতে চলেছে। অনেক কথা, অনেক বিষয় সমাজমানসের বিচিত্র দিক চলচ্চিত্রে এনে জড়ো করেন পরিচালক। মানুষ সবাই, কিন্তু মানবিকতার ভয়াবহ খামতি তাদের পরিপূর্ণ মানুষ হতে দিল না, যেন এই দু:খকে হৃদয়ের গভীরে ধারণ করে রেখেছিলেন ঋত্বিক,তাঁর চলচ্চিত্রের অনুপুঙ্খে এই ব্যাপারটিকেই বারবার ঝলসে উঠতে দেখি। সীতাকে যখন ভুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মিলের লোক তখন ছোট্ট মেয়েটাকে ভোলাচ্ছে এমনি সংলাপে যা অসাধারণ সংকেতবাহী। অভিরামকে পাঠানো হলো হোস্টেলে কিন্তু সীতাকে নয়, তাকে শেখানো হলো গান। আবহে থেকে থেকে ঘুঙুরের আওয়াজ। সীতার কণ্ঠে “ধানের ক্ষেতে রৌদ্র ছায়ায় লুকোচুরির খেলা’' গানটি বেশ কয়েকবার ব্যবহৃত হয়েছে। এই বিশাল প্রকৃতি, ধানক্ষেতে রৌদ্রছায়ার খেলা নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে যাওয়ার সৌন্দর্য যেমন মুগ্ধতা এনে দেয়, তেমনই রৌদ্রছায়ার লুকোচুরি খেলা প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির মাঝের দোলাচলতার কথাও বলে। 

ঈশ্বর চক্রবর্তীর পদোন্নতি হলো, ম্যানেজারের পদে বহাল হবার পর সে এক সুস্থির সমৃদ্ধ জীবনের স্বপ্ন দেখল। সেই সুখবর নিয়ে যখন বাড়ি ফিরছে তখন দেখল সুবর্ণরেখার উষর তীরে বসে সীতা গাইছে ভৈরবী সুরে ‘আও দেখো ভোর ভঁই’’। ঈশ্বর দাঁড়িয়ে শুনছে, দূর থেকে, সুমধুর কণ্ঠ সীতার। অত:পর কাছে গিয়ে ঈশ্বর বলছে - তুই অনেকটা বড় হয়ে গেছিস। - নিজের পদোন্নতির সংবাদটি বোনকে দেয়,এবং বলে এতো মন খারাপ করা উদাসীন গান কেন সীতার? অভিরামের খবর দেয়,আর বলে অভিরাম পড়াশোনায় উন্নতি করেছে, তবে সে নাকি সাহিত্য লিখছে, একটা লেখা ঈশ্বর পড়েছে, পড়ে তার দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। সীতা তখন বলছে, চারপাশে তো তাই ঘটে চলেছে।  ঈশ্বর বলে - মানুষ আনন্দ খোঁজে, স্বস্তি খোঁজে, সুতরাং তাই লেখা উচিত,  ওসব দু:খ ইত্যাদি মানুষ পছন্দ করে না, নেয় না। কখন এই কথাগুলি বলছে ঈশ্বর? যেদিন তার প্রমোশন হয়েছে, সুখসূর্য উঁকি দিচ্ছে মাত্র। এভাবেই হয়তো নিজে সুখের সন্ধান পেলে দু:খের জগত থেকে মানুষ পলায়ন করতে চায়, দু:খীর যন্ত্রণা প্রাণপণে এড়িয়ে যায়। এরই মধ্যে অভিরাম এসে উপস্থিত হয়, সীতা ও অভিরাম বুঝতে পারে তারা পরস্পরকে ভালবাসে। উন্মুক্ত প্রকৃতির সামনে বসে চুপি চুপি তারা নিজেদের অনুভূতি পরস্পর বিনিময় করে। এই গোপনীয়তা বুঝিয়ে দেয় সমাজ কিম্বা ঈশ্বর এই ভালবাসা মেনে নেবে না। মেলা থেকে কিনে এক সাঁওতালি মালা সীতাকে উপহার দেয় অভিরাম। ঈশ্বর গোপনে তা দেখে ফেলে। সে অভিরামকে জার্মানিতে পাঠিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াবে, এই ছিল তার স্বপ্ন। সুতরাং পারিবারিক বিরুদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয় সীতাকে। এদিকে হঠাৎই রামবিলাস এসে উপস্থিত।  সে এখন ঈশ্বরের পরিচালক, কারণ চাকরিটা সে-ই দিয়েছে। অভিরামকে দেখে সে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করে, এবং অজ্ঞাতকুলশীলকে যে ঈশ্বর আশ্রয় দিয়েছে, তা সে মোটেই ভালো চোখে দেখে না। সে জাতিভেদ বর্ণভেদ মানে, সে কথা সে সাফ জানিয়ে দেয় ঈশ্বরকে। 

ঈশ্বর এখন মাথা উঁচু করে বাঁচার সন্ধান পেয়েছে, জার্মানিতে অভিরামকে পাঠানোর পরিকল্পনা সে বাতিল করে অভিরামকে কলকাতায় চলে যেতে বলে। সীতা অভিরামকে ভালবাসে জেনে সীতার মৃত্যুকামনা করে। তারপর সীতার বিয়ে দেবার জন্যে তড়িঘড়ি বন্দোবস্ত করে ফেলে। এদিকে অভিরাম যখন ছাতিমপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছে কলকাতা, তখন গাড়ি থেকে অসুস্থ এক মহিলাকে স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি চলে যায়। মহিলা স্টেশনেই মারা যান। মহিলার শেষের দিকের কথায় অভিরাম জানতে পারে ইনিই তার হারিয়ে যাওয়া মা। এরপর পরপর কিছু ঘটনা, যদিও পরিচালক সময়ের ব্যবধানটুকু পর্দায় ব্যক্ত করেছেন  কয়েক বৎসর পর ইত্যাদি লিখে।

  সীতার বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠে অভিরামের সাথে কলকাতা পালিয়ে যাওয়া, যাওয়ার সময় বিয়ের মুকুট সুবর্ণরেখার জলে ফেলে যাওয়া, এই মুকুটের নদীর জলে ভেসে যাওয়ার শটটি বেশ কিছু সময় জুড়ে দেখানো যেন ইঙ্গিত বহন করে সীতার ভবিষ্যত সাংসারিক জীবনের স্থায়িত্ব নিয়ে, যাকে  লাল সঙ্কেতবাহী অঞ্চল বলা হয়, তা যেন ভবিতব্যের মতো কতকাল থেকে সীতার জন্যে অপেক্ষা করে আছে। 


অভিরাম পড়াশোনা করেও দাঁড়াতে পারেনি, লেখক হতে পারেনি, একটি সন্তান হয়েছে অভিরাম ও সীতার, নাম তার বিনু। শেষ পর্যন্ত ড্রাইভার হতে গিয়ে প্রথম দিনই সে পথদুর্ঘটনায় নিহত হয়। অভিরামের মৃত্যুর আগেই টাকাপয়সার অভাবের জন্যে  এক মহিলা সীতাকে গান গেয়ে টাকা রোজগারের কথা বলেছিল। সীতা তখন বুঝতে পারেনি গানের সাথে দেহব্যবসায় জড়িত, তবে অভিরাম বুঝতে পেরেছিল। অভিরামের মৃত্যুর পর সীতা সেই পথেই গেল বিনুকে বাঁচানোর জন্যে। এদিকে হরপ্রসাদের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। জীবনে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা দুটি মানুষ, ঈশ্বর ও হরপ্রসাদ, কলকাতায় নামী দামি মদের দোকানে বসে মদ খায়। চিরকুমার ঈশ্বর দেহব্যবসার মহল্লায় ঢুকে যে নারীকে পায় সে তার বোন সীতা। সীতা তার দাদাকে দেখে বঁটি দিয়ে নিজেকে ছিন্নভিন্ন করে। 

শেষ দৃশ্যে আবার সেই পিতৃ-মাতৃহীন পুত্র বিনু ঠিক তার বাবা অভিরামের মতোই মামা ঈশ্বরের হাত ধরে, যেন এ এক ঘূর্ণাবর্ত। সে ছুটছে ওই নদী  সুবর্ণরেখার দিকে, মামাকে ডাকছে তাড়াতাড়ি তার সাথে যাওয়ার জন্যে। এদিকে ঈশ্বরের কাছে চিঠি এসেছে তাঁর চাকরির জায়গায় অন্য একজনের নিযুক্তি হয়েছে। তাড়াতাড়ি যেন ম্যানেজারের বাংলো খালি করে দেওয়া হয়। ঈশ্বর এখন নিরাশ্রয়, নিরালম্ব, তাঁর প্রাণশক্তি ফুরিয়ে আসছে, অথচ বিনুর অফুরন্ত প্রাণশক্তি, সে নদীর দিকে ছুটে চলেছে, আর মামাকে বলছে তাড়াতাড়ি আসো, তুমি বুড়িয়ে গেছ।

আদ্যন্ত একটি কাহিনি থাকা সত্ত্বেও বলা ভালো সুবর্ণরেখায় কোনই কাহিনি নেই। আছে রামায়ণের সীতার কথা মিলের পূর্বতন মিলের ম্যানেজারের মুখে। প্রতিটি দৃশ্য সুপরিকল্পিত এবং রূপক প্রতীক ব্যঞ্জনার সহযোগে অনেকটা কাব্যিক, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ ইত্যাদির সংমিশ্রণে আদ্যন্ত এক রূপকাশ্রয়ী চলচ্চিত্র।  পরপর এত মৃত্যু স্বাভাবিক মনে না হলেও স্বাভাবিক যেহেতু এতে কাহিনির চাইতে সামূহিক রাজনৈতিক ও কর্তিত বঙ্গের পরিস্থিতিকে গুরুত্বময় করে তোলা হয়েছে, সুবর্ণরেখার তীরভূমি বড্ড উষর, বড্ড ধুলোমলিন। 


……………………………..


# বিজয়া দেব। 


তথ্যসূত্র - অন্তর্জাল। উইকিপিডিয়া 

কৃত্তিবাস -১৬ নভেম্বর সংখ্যা। 

চলচ্চিত্র - সুবর্ণরেখা



ঠিকানা- 

অপরাজিতা এপার্টমেন্ট 

২২৫, পূর্বাচল রোড নর্থ 

কলকাতা -৭০০০৭৮ 

ফোন - ৭৮৯৬৯৬৮৭৪৫


পরিচিতি



বিজয়া দেব - বিশিষ্ট কথাকার ও কবি।লেখারম্ভ  উত্তর পূর্ব ভারত থেকে, বর্তমানে কলকাতাবাসী।  লিখছেন নব্বইয়ের দশক থেকে। প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ "নীলাঞ্জনা 'প্রকাশিত হয়েছে জানুয়ারি ২০০৩ সালে  'এবং মুশায়েরা' প্রকাশনা,কলকাতা থেকে। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা এগারোটি, তার মধ্যে গল্পগ্রন্থ ছয়টি, অণুগল্প সংকলন একটি,উপন্যাস দুইটি, উপন্যাসিকা একটি, কাব্যগ্রন্থ একটি। পেশায় ছিলেন শিলচর, অসমের পাবলিক উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিষয় শিক্ষক ও পরবর্তীতে অধ্যক্ষ, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। 
প্রাপ্ত সম্মাননা - শিলচর শিবালিক পার্ক নয়া গ্রুপ সানডে ক্লাব ও মহিলা সমিতি থেকে সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্যে বিশেষ সম্মাননা, ২০১৮।
অনির্বাণ সাহিত্য পত্রিকা থেকে প্রদত্ত মঁঞ্জুলিকা স্মৃতি সম্মান ২০২০।
প্রতীতি সাহিত্য পত্রিকা থেকে জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি সম্মাননা ২০২৫।











Comments

Popular posts from this blog

মাইকেল মধুসূদন দত্তের চতুর্দশপদী কবিতাবলি : কিছু তথ্য কিছু কথা।